আরব ঐতিহ্য প্রযুক্তির মেলবন্ধনে স্মার্ট পর্যটন

প্রত্যাশার চেয়ে বেশি দর্শনার্থী ভিড় করছে সৌদি আরবে

সৌদি আরবের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য অর্জনের রূপরেখা ‘ভিশন ২০৩০’-এ পর্যটনকে একটি মূল স্তম্ভ হিসেবে ধরা হয়েছে।

সৌদি আরবের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য অর্জনের রূপরেখা ‘ভিশন ২০৩০’-এ পর্যটনকে একটি মূল স্তম্ভ হিসেবে ধরা হয়েছে। তবে দেশটি শুধু ঐতিহ্যের ওপর ভরসা না করে অতীতকে জীবন্ত করে তোলার জন্য সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে, যা দেশটির অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সৌদি সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী, পর্যটন খাতে জিডিপির অবদান ৩ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত করতে চায় সৌদি আরব। শুরুতে বছরে ১০ কোটির মতো পর্যটক টানার লক্ষ্য থাকলেও তা সময়ের অনেক আগেই পূরণ হয়ে যাওয়ায় এখন এ লক্ষ্য বেড়ে ১৫ কোটিতে পৌঁছেছে।

নানা ধরনের আধুনিক আয়োজন যেমন এক্সপো ২০৩০ বা বৈশ্বিক ক্রীড়া ইভেন্ট যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনি দেশের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোয়ও পর্যটন প্রবৃদ্ধির বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর অভিজ্ঞতাকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলতে ব্যবহার করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (ভিআর) এবং অগমেন্টেড রিয়ালিটির (এআর) মতো প্রযুক্তি।

বেইন অ্যান্ড কোম্পানির স্যামি আব্দুল রহমান ও জোয়াকিম অ্যালারাপ বলেন, ‘সৌদি আরবের তরুণ ও ডিজিটালি দক্ষ জনগোষ্ঠীর কথা মাথায় রেখে পর্যটন খাতে গেমিফিকেশন, ইন্টারঅ্যাকটিভ এআর ও এআইভিত্তিক ট্যুরের দিকে ঝুঁকছে দেশটি।’ তাদের ভাষায়, ভিআর প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রাচীন সভ্যতাগুলো পুনর্গঠন করা হচ্ছে। সেখানে পর্যটকরা সময়ের চাকা ঘুরিয়ে অতীতকে চোখে দেখতে পারছে। অন্যদিকে এআই ট্যুর গাইড হিসেবে কাজ করছে। দর্শনার্থীর পছন্দের ভিত্তিতে তথ্য সরবরাহ করছে এসব গাইড।

অর্থনীতিবিষয়ক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান আর্থার ডি লিটলের (এডিএল) মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের প্রধান ম্যাইটে গ্রাউ গারভিন বলেন, ‘দিরিয়াহ অঞ্চলের নাজদি স্থাপত্য আর ইতিহাসকে নতুনভাবে জানার জন্য এখন ব্যবহার করা হচ্ছে এআর ট্যুর, ইন্টারঅ্যাকটিভ প্রদর্শনী ও ভিআর প্রযুক্তি।’

তিনি জানান, দিরিয়াহতে এআই চ্যাটবট ও ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব, স্থাপত্য ও ঘটনাবলির বিস্তারিত জানতে পারছেন। অন্যদিকে সৌদির প্রথম ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট আলউলার হেগ্রাতে পর্যটকরা স্মার্ট গ্লাস ব্যবহার করে এআরের মাধ্যমে প্রাচীন সমাধি ও লেখাগুলোর হলোগ্রাফিক সংস্করণ দেখতে পাচ্ছেন।

ভিশন ২০৩০-এর আরেকটি কেন্দ্রবিন্দু হলো নিওম স্মার্ট সিটি। এখানে একদিকে রয়েছে প্রাচীন স্থাপনার ৯০০টির বেশি নিদর্শন, অন্যদিকে রয়েছে কার্বন-নিউট্রাল হোটেল, এআইচালিত স্মার্ট ট্যুর এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির মাধ্যমে ট্যুরিজম পরিচালনা। গারভিন বলেন, ‘নিওমের ট্যুর মডেলটি একদমই ভিন্নধর্মী। ইতিহাসকে শুধু পর্যবেক্ষণ নয়, এখানে সেটিকে অভিজ্ঞতার মধ্যে রূপান্তর করা হচ্ছে।’

তিনি জানান, এ মডেল পরিবেশ সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবনের ওপর জোর দিচ্ছে। ৯৫ শতাংশ জমি সংরক্ষিত থাকছে প্রকৃতির জন্য। একই সঙ্গে এআই ও আইওটি প্রযুক্তির সাহায্যে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর ওপর নজরদারি চলছে। ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার জন্য চলছে তদারকি।

গারভিন বলেন, ‘অন্য অনেক দেশের ঐতিহাসিক স্থান আছে। কিন্তু সৌদি আরব তা প্রযুক্তিনির্ভর অভিজ্ঞতার মাধ্যমে উপস্থাপন করছে।’

তিনি ব্যাখ্যা করেন, আলউলাতে এআর ও ডিজিটাল স্টোরিটেলিং এবং দিরিয়াহতে এআইভিত্তিক দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনা বিশ্ব পর্যটন মানে এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করছে। এখানে কেবল স্থাপত্য বা ইতিহাস নয়, বরং অভিজ্ঞতাই মুখ্য।

এ অভিজ্ঞতাগুলোর মধ্যে থাকবে ভিন্ন ভিন্ন স্তর। কিছু থাকবে সবার জন্য খোলা, আবার কিছু বিলাসবহুল ও কাস্টমাইজড হবে। যেমন ব্যক্তিগত এআর ট্যুর বা ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলের অভ্যন্তরে বিলাসবহুল থাকার ব্যবস্থাও থাকবে।

বেইন অ্যান্ড কোম্পানির মতে, ২০২৫ সালের মধ্যে সৌদির স্মার্ট ট্যুরিজম হয়ে উঠবে এআই ও ডাটা অ্যানালিটিকসভিত্তিক হাইপার পার্সোনালাইজড অভিজ্ঞতার কেন্দ্র। আরব নিউজ অবলম্বনে

আরও